নামাজ সংক্রান্ত অন্যান্য

ফজরের সু্ন্নত আর ফরযের মাঝে অন্য কোনো নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৫৯) : আমি সবসময় ঘরে ফজরের সুন্নত পড়ে তারপর মসজিদ যাই। মাঝে মাঝে মসজিদে গিয়ে দেখি ফজরের জামাত শুরু হতে এখনো কিছু সময় বাকি। তাই আমি সে সময় দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করি। আমার এক ভাগিনা আছে। সে মাদরাসায় পড়ে। একদিন সে আমাদের বাসায় বেড়াতে আসলে আমরা বাসায় একসাথে সুন্নত আদায় করে মসজিদে যাই। মসজিদে গিয়ে দেখি জামাতের সময় এখনো বাকি আছে তাই আমি তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে দাঁড়িয়ে যাই। নামায শেষে সে আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাকে বলি যে, আমি তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করেছি। তখন সে আমাকে বলে, ফজরের সু্ন্নত আর ফরযের মাঝে অন্য কোনো নফল নামায পড়া যায় না। তাই আমি জানতে চাচ্ছি যে, তার কথা কি ঠিক আছে?

মুক্তাদীর তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদী কী করবে?

প্রশ্ন (১২৯৪২) : আমাদের মহল্লার মসজিদে নামায পড়তে গেলে আমার একটা সমস্যা হয়। তা হলো, কখনো তাশাহ্হুদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। আবার কখনো আখেরী বৈঠকে দরূদ ও দুআ পড়ার আগে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। উল্লেখিত দুটি ক্ষেত্রে আমার করণীয় কী হবে? জানানোর অনুরোধ রইল।

ফজরের সুন্নত পড়ার পর কি তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৯৩০) : কেউ ফজরের সুন্নত ঘরে পড়ে যদি মসজিদে যায় এবং সময় থাকে তাহলে ঐ সময় তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে পারবে কি? না পারলে কেন? এবং ঐ সময় কী আমল করলে তাহিয়্যাতুল মসজিদের সওয়াব পাওয়া যাবে? দলীলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

নফল নামাযের তৃতীয় রাকাতে কেরাত না পড়লে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১২৯২৮) : আমি চার রাকাত নফল নামায আদায় করেছি। কিন্তু তৃতীয় রাকাতে শুধু তাশাহ্হুদ পড়েছি; কোনো কেরাত পড়িনি। এমনকি সূরা ফাতেহাও না। এখন জানার বিষয় হল, আমার এ নামাযের হুকুম কী?

মাসবুক ব্যক্তি তার ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার জন্য কখন দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৯২১) : মাসবুক ব্যক্তির দাঁড়ানোর সঠিক সময় কখন? অনেক সময় দেখা যায় যে, ইমাম প্রথম সালাম দেওয়ার সাথে সাথেই কেউ দাঁড়িয়ে যায় কিংবা কেউ ইমামের দুই সালাম দেওয়ার পর দাঁড়ায়। আমার জানার বিষয় হল, মাসবুক ব্যক্তি তার ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার জন্য কখন দাঁড়াবে?

রাকাত ছুটে যাওয়ার ভয়ে কাতার খালি রেখে পিছনে দাঁড়ালে কোনো সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১২৯২০) : একবার মসজিদে এসে ইমাম সাহেবকে রুকু অবস্থায় পাই। কাতার পর্যন্ত পৌঁছার আগে ইমাম সাহেব রুকু থেকে উঠে যাওয়ার আশংকা ছিল তাই রাকাতটি পাওয়ার জন্য কাতার থেকে দূরে থাকতেই ইমামের একতেদা করি। অতপর এক রোকন পরিমাণ থেমে থেমে দু-এক কদম করে কাতারে গিয়ে মিলিত হই। জানার বিষয় হল, নামাযের মধ্যে এভাবে হাঁটার দ্বারা কি নামায নষ্ট হয়ে গেছে?

নামায শুরু করে ভেঙে ফেললে কি তা কাযা করতে হয়?

প্রশ্ন (১২৯১৭) : আমার বাড়ি ঝিনাইদহ। বাড়িতে যাওয়ার সময় আমি সবসময় রাতে রওনা করি। তাই এশার নামায ফেরিতে পড়া হয়। কিন্তু শেষবার আমি বাড়িতে যাওয়ার সময় মসজিদ থেকে নামায আদায় করে রওনা করি। পরে যখন গাড়ি ফেরিতে আসে তখন আমি আবার নামাযে দাঁড়াই। তখন আমার মনে পড়ল যে, এশার নামায তো গাড়িতে উঠার আগেই পড়া হয়েছে। তখন সাথে সাথে আমি নামায ছেড়ে দেই। এখন জানার বিষয় হল, যে নামায ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা কি আমাকে কাযা করতে হবে?

নামাযী ব্যক্তির সামনে অন্য কেউ ছবিযুক্ত জামা গায়ে দিলে নামাযে দাঁড়ালে কি প্রথম ব্যক্তির নামায মাকরু…

প্রশ্ন (১২৯০৩) : মসজিদে নামায পড়তে গেলে প্রায় সময় দেখি আমার সামনের মুসল্লীর পিঠে কোনো মানুষ বা প্রাণীর ছবি থাকে। এক আলেমের কাছে শুনেছি যে, নামায পড়ার সময় সামনে, ডানে বা বামে ছবি থাকলে নামায মাকরূহ হয়। আমার জানার বিষয় হল উক্ত আলেমের কথা কি ঠিক? এমন পরিস্থিতিতে তার পেছনে নামায পড়ার কারণে কি আমার নামাযও মাকরূহ হবে?

বসে নামায আদায় করলেও কি হাত বাঁধতে হবে?

প্রশ্ন (১২৯০২) : বসে নামায পড়া অবস্থায় কেরাত পড়ার সময় হাত বাঁধতে হবে কি? আমি জানি নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় হাত বাঁধা সুন্নত। এখন জানার বিষয় হল, হাত বাঁধা কি দাঁড়ানো অবস্থার বিশেষ সুন্নত, নাকি বসে নামায আদায় করলেও তা সুন্নত হিসেবে বিবেচ্য হবে?

ছাহিবে তারতীব ভুলে কাযা নামায আদায় না করে ওয়াক্তিয়া নামায পড়ে ফেললে কি তার নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৯০০) : আমি নূরুল ইযা কিতাবে পড়েছি যে, তারতীব রহিত হওয়ার একটি কারণ হল কাযা নামাযের কথা স্মরণ না থাকা। এখন জানার বিষয় হল, কোনো ছাহিবে তারতীব যদি কাযা নামাযের কথা ভুলে কয়েক ওয়াক্তের ওয়াক্তিয়া নামায পড়ে ফেলে তাহলে যখন ঐ কাযা নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন সে কী করবে? আগে কাযা পড়বে, নাকি ভুলে একবার তারতীব সাকিত হয়ে যাওয়ার কারণে আর তারতীব রক্ষা করতে হবে না?

ওজরের কারণে মসজিদের নিচ তলা ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও উপরের তলায় জামাতে শরিক হলে কি নামায মাকরুহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৯৮) : আমি সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণে মসজিদের নিচতলায় এসির ঠান্ডায় নামায পড়তে খুব কষ্ট হয়। তাই নিচে ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও দোতলায় গিয়ে জামাতে সাথে নামায আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এতে আমাদের নামায মাকরূহ হবে কি না?

একাকী ফরয নামায আদায় করার সময় কি কেরাত জোরে পাঠ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৬) : আমার বাবা ঘরে একাকী ফরয নামায পড়ার সময় যোহর আসরসহ সকল নামাযে স্বশব্দে ইকামত দেন ও স্বশব্দে কেরাত পড়েন। যেসকল নামাযে ইমাম সাহেব নিম্নস্বরে কেরাত পড়ে থাকেন ঐসকল নামাযেও জোরে পড়েন। এসব নামাযেও তার জন্য উচ্চস্বরে কিরাত পড়া কি ঠিক হচ্ছে? আর ঠিক না হলে তার আদায়কৃত নামাযগুলোর বিধান কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

রুকু-সিজদায় যাওয়ার পর পিছনের সতর খুলে গেলে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৫) : অনেক সময় মসজিদে কিছু মুসল্লী ভাইকে দেখা যায় তারা এমন খাটো শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি পরে নামায পড়তে আসে যে, রুকু-সিজদায় গেলে পিছনের সতর খুলে যায়। এতে অনেক সময় তার পিছনের মুসল্লীদের বিব্রত হতে হয়। এখন আমি জানতে চাই, এমন কাপড় পরিধান করে নামায পড়ার কী হুকুম? এতে পিছনের মুসল্লীদের নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাসবুক ব্যক্তি কি শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদের সাথে দরূদ ও দুআ মাসুরা পড়বে?

প্রশ্ন (১২৮১৩) : মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের সাথে দরূদ ও দুআ মাসূরা পড়বে নাকি শুধু তাশাহহুদ পড়ে ইমামের সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করবে? এ ব্যাপারে সঠিক পদ্ধতিটি জানালে উপকৃত হব।

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে প্রথম বৈঠকে শরীক হলে তাশাহহুদ পড়তে হবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৭৬) : ক. কোন মাসবুক ব্যক্তি যদি ইমামের সাথে প্রথম বৈঠকে শরীক হয় , আর এমতাবস্থায় ইমাম সাহেব বৈঠক থেকে উঠে যান তাহলে মাসবুকের তাশাহহুদ পড়া লাগবে কী? খ. যদি তাশাহহুদ পড়া জরুরি হয় তাহলে আগে মাসআলা না জানার কারণে তাশাহুদ না পড়ে যে নামায পড়েছি সেগুলোর হুকুম কী হবে?

নামাযরত অবস্থায় দাঁতের মধ্যে লেগে থাকা খাবার গলার ভিতরে চলে গেলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৭৪৯) : আমি আসরের নামায পড়ছিলেন। নামাযের মধ্যে দাঁতের পাশে লেগে থাকা একটু গোস্ত গলার ভিতরে চলে যায়। এখন জানার বিষয় হল এর দ্বারা কি আমার নামায নষ্ট হয়ে গেছে?

আসরের নামাযের পরে কাযা নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৪৮) : একদিন আমি আসরের পরে মসজিদে কাযা নামায পড়ছিলাম। আমার এক প্রতিবেশী বললেন, আছরের পরে নামায পড়া মাকরূহ। তাই আসরের পরে কাযা নামায পড়া যাবে না। হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি আসরের পরে কাযা নামায পড়া নিষেধ? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামাযে নারীদের চুল বের হয়ে গেলে কি নামাযে ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৭৪৩) : আমার বোন যোহরের নামায পড়ার সময় কয়েকটি চুল ওড়নার পাশ দিয়ে বের হয়ে ছিল। আমার আম্মু দেখে বোনকে বললেন, তোমার নামায হয়নি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমার আম্মুর কথা কি ঠিক? বোনের নামায কি হয়নি?

ফরয নামাযের তৃতীয়-চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে ফেললে কি সিজদায়ে সাহু আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৭৪২) : কিছুদিন আগে এক বয়ানের মজলিসে এক ভাই নামাযের মাসায়েলের আলোচনা করতে গিয়ে বললেন- ‘ভুলবশত ফরয নামাযের তৃতীয়-চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে সূরা মিলিয়ে ফেললে সিজদায়ে সাহু করা আবশ্যক হয় না।’ জানার বিষয় হল, তার এই কথা কি ঠিক?