নামাজ সংক্রান্ত অন্যান্য

কাযা নামায বাকি রেখে ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করলে কি আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২২০২) : আমি একদিন ফজরের নামায পড়তে পারি নাই। সূর্য উদয় হলে পড়ে নিব ভাবছিলাম। কিন্তু আমার মনে ছিল না। তারপর যোহরের নামায পড়ার পর আমি ফজরের কাযা নামায আদায় করি। এখন কি আমার যোহরের ফরয নামায বাতিল হয়ে যাবে? আমি একজন আলেমের কাছ থেকে শুনেছিলাম যে, কোনো ব্যক্তির এক ওয়াক্ত নামায তার জিম্মা থেকে ছুটে গেল পরবর্তী ওয়াক্তের পরে তা কাযা আদায় করলে পূর্ববর্তী নামাযের ফরযিয়াত বাতিল হয়ে যাবে। তাই দয়া করে সঠিক মাসআলা জানাবেন। উল্লেখ্য: আমার অনেক ওয়াক্তের নামায কাযা আছে।

যানবাহনে নামাযরত অবস্থায় যানবাহন ঘুরে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৮৫) : লঞ্চে করে লালমোহন থেকে ঢাকায় আসার পথে খালের মাঝে অতিরিক্ত বাঁক থাকায় আমরা আসরের নামায বিলম্ব করে সূর্য ডোবার আগ মুহূর্তে আরম্ভ করি। নামাযের মাঝে হঠাৎ লঞ্চটি ঘুরতে শুরু করে। তখন ইমাম সাহেবও ঘুরতে থাকেন। আর ইমাম সাহেবের দেখাদেখি মুসল্লিরাও ঘুরতে থাকে। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ইমাম সাহেব ঘুরার সাথে সাথে ডান দিকে ঘেষে এক-দু পা করে হাঁটতেও থাকেন। বিষয়টি আমার কাছে অদ্ভুত লাগায় পাশের ভাইকে জিজ্ঞেস করলে সে এ বলে উত্তর দেয় যে, হয়ত কিবলা ঠিক রাখার জন্য সকলে ঘুরতে থাকে। অন্যথায় পূর্বদিকে ফিরে নামায আদায় করা হত। আর ইমাম সাহেব যদি তখন না হাটতেন তাহলে মুসল্লিদের পিছনে চলে যেতেন। তাই হয়ত তিনিও হেঁটেছেন। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায আদায় হয়েছে কি?

নামাযের মধ্যে হাসলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২১৮৪) : কিছুদিন আগে এশার নামায পড়ার সময় কোনো কারণে খুব হাসি আসে। হাসি চেপে রাখতে গিয়ে হাল্কা একটু আওয়ায হয়। আমি মনে করছিলাম যে, আওয়াজটি শুধু আমি নিজেই শুনেছি কিন্তু পাশের ভাই বলে উঠলেন, যান ওযু করে আসেন, আমি আপনার হাসির আওয়াজ শুনেছি। তখন আমি ওযু করে পুনরায় নামায পড়ি। জানতে চাচ্ছি, এতটুকু হাসির কারণে ওযু করা ঠিক হয়েছে কি?

সিজদারত অবস্থায় জমিন থেকে পা উঠে গেলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২১৭৮) : আজ যোহরের নামাযের পর এক মুরব্বী আমাকে ডেকে বললেন, সিজদায় তোমার পা জমিন থেকে উঠে যায়। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা দুই পা জমিন থেকে উঠে গেলে তো নামাযই হবে না। বিষয়টি আমার পুরোপুরি বুঝে আসেনি। কেননা এ বিষয়ে আমি ভিন্ন মন্তব্যও শুনেছি। সঠিক মাসআলা দলীলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব?

চার রাকাত সুন্নতের নিয়ত করে দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি অবশিষ্ট দুই রাকাত কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৭৪) : দুই দিন আগে মসজিদে আছরের চার রাকআত সুন্নত পড়ছিলাম। তখন জামাত দাঁড়িয়ে গেলে দুই রাকাতের পর সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হয়ে যাই। প্রশ্ন হচ্ছে, এখন কি আমাকে অবশিষ্ট দুই রাকাত কাযা করত হবে? কেননা আমি তো চার রাকাতের নিয়তে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত পড়েছি?

নামায কাযা করার সময় কি ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৭৩) : আমি শৈশব থেকেই নামাযের প্রতি খুব যত্নবান ছিলাম। তাই কখনো কোনো কারণে নামায ছুটে গেলেও সাথে সাথে তা কাযা করে নিতাম। কিছুদিন হল, আমি এক কোম্পানিতে সেলসম্যান হিসাবে চাকরি শুরু করেছি। ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় মাঝেমাঝেই যোহর, আসর ও মাগরিব নামায কাযা হয়ে যায়। তবে আমি প্রতিদিন নিয়মিতই রাতে বাসায় এসে উক্ত নামাযগুলোর কাযা পড়ে নিই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি যে, রাতে কাযা করার সময় আমাকে কি উক্ত নামাযগুলোর নির্ধারিত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পড়তে হবে?

ডানে বা বামে মানুষের ছবি ঝুলানো থাকলে কি নামায মাকরুহ হবে?

প্রশ্ন (১২১৬০) : আমি ও আমার বড় ভাই মামার বাসায় যাই। সেখানে আমরা যেই রুমে নামায পড়ি তাতে আমাদের মরহুম নানা-নানীর ছবি ঝুলানো ছিল। ছবিটি বেশ বড় ছিল। নামাযের পর আমার সন্দেহ হয় যে, এ রুমে পড়া নামায আদায় হয়েছে কি না? বড় ভাইকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, নামায হয়ে গেছে। কেননা ছবিটি আমাদের সামনে ছিল না; বরং ডানপাশে ছিল। জানার বিষয় হল, তার কথাটা কি ঠিক? পাশে ছবি থাকা অবস্থায় নামায পড়লে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে না?

প্রাণীর ছবিযুক্ত জামা গায়ে দিয়ে নামায পড়লে কি নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১৪৬) : শীতকালে আমাদের এলাকায় কোনো কোনো যুবক এমন কাপড় পরিধান করে, যাতে বিভিন্ন প্রাণীর ছবি থাকে। কখনো কখনো এ ধরনের কাপড় নিয়ে তারা নামাযও পড়ে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ কারণে নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি না?

ফজরের নামায একাকী আদায় করলে কি কিরাত উচ্চস্বরে পড়া জরুরী?

প্রশ্ন (১২১৪১) : আমাদের বাড়ির সাথেই মসজিদ। আলহামদুলিল্লাহ সর্বদা মসজিদে জামাতের সাথে নামায আদায় করি। কিন্তু একদিন ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়ে যায়। তাই ফজরের নামাযটি ঘরেই একাকী পড়ি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, একাকী ফজরের নামায পড়লে উচ্চস্বরে কিরাত পড়া কি জরুরি নাকি আস্তে আস্তে পড়া যাবে?

মুক্তাদী নামাযে ভুল করলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১২৬) : একদিন এশার নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে বসার সময় ইমাম সাহেব কিছুটা দীর্ঘ করে তাকবীর বলেন। একারণে আমরা কয়েকজন মুক্তাদি দাঁড়িয়ে যাই। এরপর অন্যদের দেখে আবার বসে পড়ি এবং শেষে ইমামের সাথেই সালাম ফিরাই। জানার বিষয় হল, এভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে কি আমাদের উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হয়েছে?

কাউকে বিপদে পড়তে দেখলে নামায ছেড়ে দেওয়া জায়েয আছি কি?

প্রশ্ন (১২১২৫) : আমার আট মাসের বাচ্চাকে খাটের উপর ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে আমি খাটের পাশে আসরের নামায পড়তে দাঁড়াই। ইতিমধ্যে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বাচ্চা কাঁদতে শুরু করে এবং গড়াগড়ি করে খাটের পাশে চলে যায়। এ অবস্থা দেখে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয়ে আমি নামায ছেড়ে দিয়ে বাচ্চাকে কোলে নিই। জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

মুক্তাদীর তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদী কী করবে?

প্রশ্ন (১২১১১) : গতকাল যোহরের নামাযের প্রথম বৈঠকে তশাহহুদ পড়ছিলাম। আমার তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। এমতাবস্থায় আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই- ইমামের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যাব, নাকি তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়াব? পরে অবশ্য তাশাহহুদ শেষ করেই দাঁড়াই। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, উল্লেখিত সুরতে আমার করণীয় কী ছিল? তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়ানো কি ঠিক হয়েছে?

তাকবীর বলে রুকুতে যাওয়ার সাথে সাথে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে কি ঐ রাকাত ধর্তব্য হবে?

প্রশ্ন (১২১০৪) : একদিন আসরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতের রুকুতে পাই। তখন আমি তাড়াতাড়ি তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাই। কিন্তু রুকুতে পৌঁছার সাথে সাথেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তখন আমিও ইমামের সাথে আবার দাঁড়িয়ে যাই। এই অবস্থায় কি দ্বিতীয় রাকাত পেয়েছি বলে ধর্তব্য হবে? নাকি আমি এই রাকাত পাইনি? আবার কখনো এমন হয় যে, রুকুতে পুরোপুরি পৌঁছার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তখনই বা কী করণীয়? রুকু পাওয়ার জন্য ন্যূনতম অবস্থা কী?

মুক্তাদী তাশাহ্হুদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদীর করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২১০১) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একটু দ্রুত তারাবী পড়ান। ফলে কখনো কখনো আমি তাশাহহুদ পড়ে শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। তেমনিভাবে অন্যান্য নামাযের প্রথম বৈঠকে কখনো কখনো আমরা মুক্তাদীরা তাশাহহুদ পড়ে শেষ করার আগেই তিনি তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমরা কি তাশাহহুদ পূর্ণ করব, নাকি তাশাহহুদ পূর্ণ না করেই ইমামের অনুসরণ করে দাঁড়িয়ে যাব বা সালাম ফিরিয়ে ফেলব?

নামাযের মাঝে ঘড়ি দেখলে কি নামাযের কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৯) : মসজিদের সামনের দেয়ালে একটি ডিজিটাল ঘড়ি লাগানো হয়েছে। তো অনেক সময় যোহরের নামায পড়ার জন্য মসজিদে এসে টাইম না দেখেই সুন্নত পড়তে শুরু করি। সুন্নত শুরু করার পর জামাত দাঁড়িয়ে যাওয়ার আশংকা হলে সুন্নত শেষ করতে পারব কি না নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘড়ি দেখি। জানার বিষয় হলো, নামাযের মধ্যে সময় দেখার উদ্দেশ্যে ঘড়ি দেখলে নামাযের কি কোনো ক্ষতি হয়?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর জামাতে শরীক হলে কি ইক্তিদা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৮) : গতকাল এশার নামাযে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর আমি জামাতে শরীক হয়েছি। নামায শেষ করার পর আমার সন্দেহ হয় যে, ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করার পর আমার ইক্তেদা করা সহিহ হল কি না? দয়া করে বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাসবুক ব্যক্তি ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি তার নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৬) : কখনো কখনো মাসবুক হলে শেষ বৈঠকে তা স্মরণ থাকে না। ভুলে ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলি। প্রথম সালাম ফিরিয়ে নেওয়ার পর মাসবুক হওয়ার বিষয়টি মনে পড়ে। এক্ষেত্রে কি আমার নামায ভেঙে যাবে। আর যদি না ভাঙে, তাহলে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

কাতারের মাঝখানে ফাঁকা রেখে নামায পড়লে কি কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২০৮৯) : আমাদের এলাকায় একটি মাহফিল হয়। তাতে অনেক লোকসমাগম হয়। তাই কর্তৃপক্ষ এশার জামাত মাহফিলের মাঠেই করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেদিন এখানে বৃষ্টি ছিল। তাই নামাযের কাতার সোজা করার সময় দেখা গেল যে, মাঠের মধ্যখানে তিনটি কাতারের মাঝামাঝি অংশে উপরে শামিয়ানা না থাকায় বৃষ্টির পানি পড়ছে। তাই লোকেরা এ কাতারগুলোর ডান পাশে ও বাম পাশে দাঁড়াতে পারলেও মাঝের অংশ খালি রেখে পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল যে, যাদের সামনে কাতারগুলোর মাঝখানের অংশ ফাঁকা ছিল তাদের নামায কি সহিহ হয়েছে?