সালাত বা নামাজ

ইমাম সাহেব নামাযের মধ্যে কেরাতে আটকে গেলে অন্য জায়গা থেকে পড়তে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫১৫) : যদি ইমাম সাহেব কেরাতে আটকে যায় এবং নামায শুদ্ধ হয় এ পরিমাণ কেরাত পূর্ণ হয়নি তাহলে কি তিনি সে স্থান ত্যাগ করে অন্য জায়গা থেকে পড়তে পারবে?

তারাবীহর নামায পড়িয়ে হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫০৬) : আমি তিন বছর যাবৎ গ্রামের একটি মসজিদে তারাবীহ পড়াই। মসজিদের কমিটি আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে অল্প কিছু হাদিয়া দিয়েছে। আর আমার ছোট ভাইও দু’বছর একটি বাসায় তারাবীহ পড়িয়েছে এবং একইভাবে তাকেও হাদিয়া দেওয়া হয়। আর একজন মুসল্লি তাকে একটি পাঞ্জাবির কাপড়ও দিয়েছেন। জানার বিষয় হল, এই হাদিয়া কি আমাদের জন্য বৈধ হবে?

স্ত্রীকে নিয়ে জামাত পড়লে দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১৩৫০৪) : আমি নিয়মিত মসজিদেই নামায পড়ি। কখনো মসজিদে যেতে দেরি হয়ে গেলে বাড়িতে আমার স্ত্রীকে নিয়ে জামাত করি। এক্ষেত্রে তাকে আমার ডান পাশে একটু পেছনে দাঁড় করাই। অর্থাৎ তার পায়ের আঙ্গুল আমার গোড়ালির পরে হয়ে থাকে। আমার এ নিয়ম কি ঠিক আছে?

তারাবীর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত না করে সিজদা আদায় করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৮৫) : তারাবীহ নামাযে প্রথম রাকাতে হাফেয সাহেব সিজদার আয়াত না পড়েই সিজদা দেন। সিজদা থেকে উঠে সিজদার আয়াতের পর থেকে শুরু করে যথানিয়মে দুই রাকাত শেষ করেন। অর্থাৎ সিজদার আয়াতটুকু পড়া হয় নাই। নামায শেষে সিজদার আয়াত ছুটে গেছে জানানো হলে তিনি পরের দুই রাকাতের প্রথম রাকাতে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা দেন। অতপর যথানিয়মে বাকি নামায শেষ করেন। এখন প্রশ্ন হল, প্রথম রাকাতে সিজদার আয়াত না পড়েই যেহেতু সিজদা দেওয়া হয়েছে তাই ঐ দুই রাকাত নামায সহিহ হয়েছে কি? সহিহ না হলে আমাদের করণীয় কী?

মাসবুক ব্যক্তি কি ইমামের সাথে সাহু সিজদা আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩৪৮৩) : আমি আসরের নামাযের সময় চতুর্থ রাকাতে ইমামের সাথে শরিক হই। নামায শেষে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা আদায় করেন। কিন্তু আমি সাহু সিজদা না দিয়ে বসে থাকি। কারণ আমি এক ব্যক্তির কাছে শুনেছিলাম, মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সাহু সিজদা দিবে না। কিন্তু নামায শেষে পাশের এক মুসল্লি বলল, মাসবুক ব্যক্তিও ইমামের সাথে সাহু সিজদায় শরিক হবে। অন্যথায় তার নামায সহিহ হবে না। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, সঠিক মাসআলা কোনটি? জানালে উপকৃত হব।

তাকবীরে তাশরীক বলার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩৪৮১) : আমরা শুনেছি, যিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রতি ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক একবার পড়া ওয়াজিব এবং একের অধিক পড়া সুন্নত। এটা কি সঠিক?

জামায় রক্তের দাগ নিয়ে নামাজ পড়লে কি উক্ত নামাজ আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৭৬) : একদিন মুরগি জবাই করার সময় আমার জামায় কিছু রক্ত লাগে। তখন জামাটি আমি পানি দিয়ে কয়েকবার ভালোভাবে ধুয়েছি। কিন্তু জামা থেকে রক্তের লাল দাগ পুরোপুরি দূর হয়নি। আর তখন আমার সাথে অন্য কোনো জামা ছিল না। তাই আমি ঐ জামা পরেই আমি কয়েক ওয়াক্ত নামায পড়েছি। এখন প্রশ্ন হল, আমি ঐ জামা নিয়ে যে কয়েক ওয়াক্ত নামায পড়েছি তা কি আদায় হয়েছে না তা আবার পড়তে হবে?

খতম তারাবীতে কোনো একটি সূরার শুরুতে উঁচু আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬৬) : আমাদের দেশে যে সকল মসজিদে তারাবীতে খতমে কুরআন হয় সেখানে দেখা যায় যে, কোনো একটি সূরার শুরুতে বড় আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া সুন্নত। আবার সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া মুস্তাহাব। অনুগ্রহপূর্বক এই দুই মাসআলার বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ফয়সালা জানানোর অনুরোধ রইল।

সফর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৪৬৪) : আমি বিকালে সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হই। ১৫/২০ কিলোমিটার যাওয়ার পর আসরের সময় হলে এক জায়গায় আমি আসরের নামায দুই রাকাত কসর পড়ে নেই। কিন্তু আরো কিছু দূর যাওয়ার পর জরুরী কাজে আমার সফরটি মুলতবি করতে হয়। তো কাজ সেরে বাড়ি যেতে যেতে রাত প্রায় ১১টা বেজে যায়। এখন জানার বিষয় হল, রাস্তায় আদায়কৃত আসরের নামায কি আদায় হয়েছে? আর সফর যেহেতু মুলতবি করেছি সেক্ষেত্রে ইশার নামায একাকী পূর্ণ পড়া উচিত ছিল নাকি কসর? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

জুমার নামায আদায় করতে না পারলে কি যোহরের নামাযের জামাত পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫৬) : আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে শুক্রবার দিন ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিলাম। জুমার নামাযের সময় ট্রেন না থামায় আমরা জুমার নামায পড়তে পারিনি। আমরা ট্রেন থেকে নেমে এক মসজিদে ঢুকে যোহরের নামায জামাতের সাথে আদায় করি। জানতে চাচ্ছি, জামাতের সাথে এভাবে যোহরের নামায আদায় করা কি ঠিক হয়েছে? নাকি পৃথকভাবে আদায় করা উচিত ছিল?

একসাথে একাধিক মসজিদে আযান হলে কোন মসজিদের আযানের জওয়াব দিবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫৪) : আমার বাসার আশেপালে কয়েকটি মসজিদ রয়েছে। নামাযের সময় সবগুলো মসজিদে প্রায় একই সময় আযান শুরু হয়। কখনো বা কোনো মসজিদে অন্যান্য মসজিদগুলোর ১৫/২০ মিনিট আগেই আযান দেওয়া হয়। আমার জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে আমি কোন মসজিদের আযানের জওয়াব দিব?

নামাযের কোনো রাকাতে ভুলে রুকু ছুটে গেলে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫৩) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আসরের নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে রুকু না করেই সিজদায় চলে যান। পেছন থেকে তাকবীর বললেও তিনি উঠেননি। ফলে সবাই তার সাথে সিজদায় শরিক হয়ে যায়। পরে তিনি দ্বিতীয় রাকাতে দুটি রুকু করেন এবং চতুর্থ রাকাতের পর সাহু সিজদা করে নামায শেষ করেন। জানার বিষয় হল, আমাদের ঐ নামায কি সহিহ হয়েছে?

ফরয নামাযে ভুলে দুইবার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫২) : আমি মাগরিবের নামাযে প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহা শেষ করে ভুলবশত পুনরায় সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি। তারপর যথারীতি নামায পড়ে সাহু সিজদা দেই। জানতে চাচ্ছি, আমার ঐ নামায কি হয়ে গেছে? নাকি পুনরায় পড়তে হবে?

ঘরে প্রাণীর ছবি টাঙানো থাকলে উক্ত ঘরে নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৪৭) : ঘরে মানুষ বা প্রাণীর ছবি টাঙানো থাকলে উক্ত ঘরে নামায পড়ার হুকুম কী? একজন আলেম বলেছেন, এমন ঘরে নামায পড়া মাকরূহ। তবে কাপড় বা অন্য কিছু দিয়ে যদি ছবি ঢেকে দেওয়া হয় তাহলে মাকরূহ হবে না। এখন আমি তাই করছি। নামাযে দাঁড়ানোর পূর্বে কিছু দিয়ে ছবিটি ঢেকে দেই। এতে কোনো অসুবিধা আছে? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

নামাযে শরিক না হয়ে ইমাম সাহেবের সিজদার আয়াতের তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদায়ে তিলাওয়াত আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৪৬) : আমাদের বাসা মসজিদের পাশে অবস্থিত। ফলে নামাযের সময় আমাদের বাসা থেকে ইমাম সাহেবের তিলাওয়াত শোনা যায়। জুমার দিন ফজরের নামাযে ইমাম সাহেব সূরা সাজদাহ তিলাওয়াত করেন। যা আমাদের বাসা থেকে স্পষ্টভাবে শোনা যায় এবং বাসার সবাই সিজদার আয়াতটি সম্পর্কে অবগত। জানার বিষয় হলো, বাসায় মাস্তুরাত যারা আছেন উক্ত সিজদার আয়াত শোনার দ্বারা তাদের উপরও কি সিজদা করা ওয়াজিব হবে?

ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিলে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৪৩) : কয়েকদিন আগে আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব ওয়াক্ত আসার আগেই ইশার নামাযের আযান দিয়ে দেন। তখন মসজিদে আমি ছিলাম আর আমাদের এলাকার একজন আলেম ছিলেন। তো তিনি ওয়াক্ত আসার পর মুয়াযযিন সাহেবকে পুনরায় আযান দিতে বললে তিনি অসম্মতি প্রকাশ করেন এবং বলেন, আযান একবার দিলেই হয়ে যায়। পুনরায় দিতে হবে না এবং তিনি পুনরায় আযান দেননি। জানার বিষয় হল, ওয়াক্ত আসার পূর্বে আযান দেওয়ার বিধান কী? এক্ষেত্রে পুনরায় আযান দিতে হবে কি?