সালাত বা নামাজ

নামাযের কোনো রাকাতে তিন সিজদা দিয়ে সাহু সিজদা দিলে কি নামায শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২৯০৫) : একদিন আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব এশার নামাযের তৃতীয় রাকাতে তিন সিজদা দেন। নামায শেষে তিনি সাহু সিজদা আদায় করেন। সালাম ফিরানোর পর মুসল্লীরা এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে, কেউ যদি নামাযের কোনো রাকাতে তিন সিজদাহ দেয়, তারপর সাহু সিজদা দেয় তবে নামায হয়ে যাবে। উক্ত কথাটি কতটুকু সঠিক? উত্তর দিয়ে উপকৃত করবেন।

নামাযী ব্যক্তির সামনে অন্য কেউ ছবিযুক্ত জামা গায়ে দিলে নামাযে দাঁড়ালে কি প্রথম ব্যক্তির নামায মাকরু…

প্রশ্ন (১২৯০৩) : মসজিদে নামায পড়তে গেলে প্রায় সময় দেখি আমার সামনের মুসল্লীর পিঠে কোনো মানুষ বা প্রাণীর ছবি থাকে। এক আলেমের কাছে শুনেছি যে, নামায পড়ার সময় সামনে, ডানে বা বামে ছবি থাকলে নামায মাকরূহ হয়। আমার জানার বিষয় হল উক্ত আলেমের কথা কি ঠিক? এমন পরিস্থিতিতে তার পেছনে নামায পড়ার কারণে কি আমার নামাযও মাকরূহ হবে?

বসে নামায আদায় করলেও কি হাত বাঁধতে হবে?

প্রশ্ন (১২৯০২) : বসে নামায পড়া অবস্থায় কেরাত পড়ার সময় হাত বাঁধতে হবে কি? আমি জানি নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় হাত বাঁধা সুন্নত। এখন জানার বিষয় হল, হাত বাঁধা কি দাঁড়ানো অবস্থার বিশেষ সুন্নত, নাকি বসে নামায আদায় করলেও তা সুন্নত হিসেবে বিবেচ্য হবে?

ছাহিবে তারতীব ভুলে কাযা নামায আদায় না করে ওয়াক্তিয়া নামায পড়ে ফেললে কি তার নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৯০০) : আমি নূরুল ইযা কিতাবে পড়েছি যে, তারতীব রহিত হওয়ার একটি কারণ হল কাযা নামাযের কথা স্মরণ না থাকা। এখন জানার বিষয় হল, কোনো ছাহিবে তারতীব যদি কাযা নামাযের কথা ভুলে কয়েক ওয়াক্তের ওয়াক্তিয়া নামায পড়ে ফেলে তাহলে যখন ঐ কাযা নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন সে কী করবে? আগে কাযা পড়বে, নাকি ভুলে একবার তারতীব সাকিত হয়ে যাওয়ার কারণে আর তারতীব রক্ষা করতে হবে না?

বিতির নামায পড়ার পর কি নফল নামায আদায় করা নিষেধ?

প্রশ্ন (১২৮৯৯) : বিতির নামাযের পর নফল নামায পড়া যাবে কি? অনেকে বলে, এশার নামাযের পর বিতির নামায পড়ে কোনো নফল পড়া যায় না। এই কথা কি ঠিক? দয়া করে দলিলসহ জানাবেন।

ওজরের কারণে মসজিদের নিচ তলা ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও উপরের তলায় জামাতে শরিক হলে কি নামায মাকরুহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৯৮) : আমি সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণে মসজিদের নিচতলায় এসির ঠান্ডায় নামায পড়তে খুব কষ্ট হয়। তাই নিচে ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও দোতলায় গিয়ে জামাতে সাথে নামায আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এতে আমাদের নামায মাকরূহ হবে কি না?

তারাবীর নামাযে প্রতি চার রাকাত পর পর দুআ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৮৮৪) : আমাদের এলাকায় প্রায় সকল মসজিদে তারাবির নামাযে চার রাকাত অন্তর অন্তর একটি দুআ- سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ... পাঠ ও তারপর মোনাজাতের রীতি রয়েছে। গত বছর আমাদের মসজিদে তারাবীহ পড়ানোর জন্য একজন নতুন হাফেজ সাহেব আসেন। তিনি এভাবে মোনাজাত করতে দেখে এটাকে অনুত্তম বলেন এবং তা না করার কথা বলেন। এতে মুসল্লিরা দুই পক্ষ হয়ে যায়। ফিতনার আশংকায় কেউ কেউ মোনাজাত করার পরামর্শ দেন এবং তিনি তাই করেন। এ প্রেক্ষিতে একজন মুসল্লি বললেন, অনেকে এ মোনাজাতকে মুস্তাহাব পর্যায়ের বলে থাকে। অথচ তারাবির এ মোনাজাত সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন কেউ করেননি; তাহলে মুস্তাহাব সাব্যস্ত হয় কীভাবে? এখন জানার বিষয় হলো, এই দুআর ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী? দালীলিক সমাধান দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

সফর পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করার পর বাড়িতে ফিরে আসলে নামাযের হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৮৮১) : কেউ যদি সফরে বের হয়ে সফরের দূরত্ব অতিক্রম করার আগেই ফেলে যাওয়া কোনো কিছু নিতে আবার বাড়িতে ফিরে আসে তাহলে বাড়িতে আসার পথে সে কসর করবে, না পূর্ণ নামায আদায় করবে?

সিজদায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে নামাযের শেষ বৈঠক ছুটে গেলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৭৫) : একদিন আমি ফজরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ইমাম সাহেবের সালামের শব্দ শুনে ঘুম ভাঙে। তখন সাথে সাথে সিজদা থেকে উঠে বসে সালাম ফিরাই। আমি জানতে চাই, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে?

ফজর ও আসরের নামাযের পর ইমাম সাহেবের মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৮৭২) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। সাধারণত ফজর ও আসর নামাযের পর মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসি। কিন্তু এই ব্যপারে আমার কোনো জ্ঞান নেই। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আসলে বিষয়টি কতটুকু শরীয়তসম্মত? যদি বিষয়টি শরীয়তসম্মত হয় তাহলে জানার বিষয় হল, পুরোপুরি মুসল্লিদের দিকে ফিরে বসতে হবে, নাকি ডান বা বাম দিকে ফিরে বসলেও চলবে?

সূর্যোদয়ের সময় নামায পড়লে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৯) : আমরা জানি, সূর্যোদয়ের সময় ১০-১৫ মিনিট নামায পড়া যায় না। তা সত্ত্বেও যদি কেউ এ সময় ফজরের নামায পড়ে ফেলে তাহলে কি এর দ্বারা তার ফরয আদায় হয়ে যাবে? নাকি পরে আবার পড়তে হবে? অনুরূপ যদি সূর্যোদয়ের পূর্বে নামায শুরু করার পর নামাযরত অবস্থায় সূর্যোদয় হয়ে যায় তাহলে এ নামাযের হুকুম কী?

একাকী ফরয নামায আদায় করার সময় কি কেরাত জোরে পাঠ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৬) : আমার বাবা ঘরে একাকী ফরয নামায পড়ার সময় যোহর আসরসহ সকল নামাযে স্বশব্দে ইকামত দেন ও স্বশব্দে কেরাত পড়েন। যেসকল নামাযে ইমাম সাহেব নিম্নস্বরে কেরাত পড়ে থাকেন ঐসকল নামাযেও জোরে পড়েন। এসব নামাযেও তার জন্য উচ্চস্বরে কিরাত পড়া কি ঠিক হচ্ছে? আর ঠিক না হলে তার আদায়কৃত নামাযগুলোর বিধান কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

রুকু-সিজদায় যাওয়ার পর পিছনের সতর খুলে গেলে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৫) : অনেক সময় মসজিদে কিছু মুসল্লী ভাইকে দেখা যায় তারা এমন খাটো শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি পরে নামায পড়তে আসে যে, রুকু-সিজদায় গেলে পিছনের সতর খুলে যায়। এতে অনেক সময় তার পিছনের মুসল্লীদের বিব্রত হতে হয়। এখন আমি জানতে চাই, এমন কাপড় পরিধান করে নামায পড়ার কী হুকুম? এতে পিছনের মুসল্লীদের নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

আহলে হাদিস ইমামের পিছনে জুমার নামায আদায় করলে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৫৫) : আমার বাসা রাজশাহী। আমি একটি আহলে হাদিস অধ্যুষিত এলাকায় থাকি এবং তাদের মতাদর্শী এক ইমামের পিছনে জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করি। তিনি আরবীর পরিবর্তে বাংলায় জুমার খুতবা প্রদান করেন। অথচ আমরা জানি, আরবী ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় খুতবা দেওয়া জায়েয নয়। জানার বিষয় হল, বাংলাতে খুতবাদাতা ঐ ইমামের পিছনে আমার জুমার নামায সহিহ হয়েছে কি না? সহিহ না হলে এখন কি আমাকে এতদিনের আদায়কৃত নামাযগুলোর কাযা করতে হবে?

ইমাম সাহেব নামাযে ভুল করলে কী বলে লোকমা দেওয়া উচিত?

প্রশ্ন (১২৮১৭) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। কয়েকদিন আগে আমি ভুল করে যোহরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যাই। তখন পেছন থেকে একজন আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দেয়। সেখানে উপস্থিত একজন আলেম নামায শেষে বললেন, হাদিস ও ফিকহের কিতাবাদিতে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা আছে। আল্লাহু আকবার বলে নয়। সুতরাং সুবহানাল্লাহ বলাই উচিত। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, ঐ আলেমের কথা কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাসবুক ব্যক্তি কি শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদের সাথে দরূদ ও দুআ মাসুরা পড়বে?

প্রশ্ন (১২৮১৩) : মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের সাথে দরূদ ও দুআ মাসূরা পড়বে নাকি শুধু তাশাহহুদ পড়ে ইমামের সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করবে? এ ব্যাপারে সঠিক পদ্ধতিটি জানালে উপকৃত হব।

মুসাফিরের জন্য কি সফর অবস্থায় কসর করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৮১২) : সফর অবস্থায় নামায কসর করা কি জরুরি? কেউ কেউ বলে কসর করা জরুরি নয়। কেউ চাইলে পুরো নামাযও পড়তে পারে আবার কসরও করতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ কথার পর বিষয়টি নিয়ে আমি সংশয়ে পড়ে যাই। দয়া করে আমাকে এর সমাধান জানাবেন।

জামাতে নামাযের ক্ষেত্রে মুসল্লীরা কখন দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৮০৯) : অনেককেই বলতে শোনা যায় যে, মুক্তাদীগণ মুআজ্জিন হাইয়া আলাল ফালাহ বলা পর্যন্ত মুক্তাদীগণ অপেক্ষা করবে। তারপর দাঁড়াবে। আমার জানার বিষয় হলো, জামাতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে কাতার সোজা করার সঠিক সময় কখন? আর ইক্বামত কি মুসল্লিরা দাঁড়ানোর পর দিবে? নাকি ইক্বামত শুরু করার পর মুসল্লিরা দাঁড়াবে?

মুসাফির ব্যক্তি যোহরের নামায চার রাকাত আদায় করলে কি তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৭৮৬) : সফর অবস্থায় আমরা দুই সাথী একদিন মসজিদে জামাত না পেয়ে নিজেরা জামাত করি। সফরে সবসময় কসর করলেও যেহেতু মসজিদে জামাতে নামায পড়লে পূর্ণ চার রাকাতই পড়া হয় এ হিসাবে আমিও চার রাকাত নামায পড়াই। ঘটনাক্রমে ভুলবশত প্রথম বৈঠক করিনি। তাই সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করি। নামায শেষে আমার সাথীটি বলল, নামায সহিহ হয়নি। কেননা, মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত পড়ার ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠক না করলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি আমার বোধগম্য হয়নি। কেননা আমি তো সাহু-সিজদা করেছি। তাই সে পুনরায় নামাযটি পড়লেও আমি পড়িনি। জানার বিষয় হল, তার কথাটি কি ঠিক? আমাদের ঐ দিনের যোহরের নামায সহিহ হয়েছে কি?