জানাযার খাটিয়া বহনের সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি কী?
প্রশ্ন (১৩০৫৫) : আমাদের গ্রামে জানাযা নামাযের পর খাটিয়া বহন করে গোরস্তানে যাওয়ার পথে তিনবার থামা হয় এবং এই থামাকে সুন্নতও বলা হয়। এটা কি সঠিক? এক্ষেত্রে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি কী? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
প্রশ্ন (১৩০৫৫) : আমাদের গ্রামে জানাযা নামাযের পর খাটিয়া বহন করে গোরস্তানে যাওয়ার পথে তিনবার থামা হয় এবং এই থামাকে সুন্নতও বলা হয়। এটা কি সঠিক? এক্ষেত্রে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি কী? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
প্রশ্ন (১৩০৫৪) : আমাদের মসজিদের অভ্যন্তরে মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ যদি অভ্যন্তর সংলগ্ন আরো কিছু জায়গা নামাযের জন্য বাড়িয়ে নেয় তবে কি তা মূল মসজিদ ধরা হবে, না বারান্দা ধরা হবে? যদি ঐ বর্ধিত অংশ মূল মসজিদ বলে গণ্য হয় তবে মসজিদের আদব-ইহতেরামের সমস্ত বিধানাবলী ঐ বর্ধিত অংশের উপর বর্তাবে কি?
প্রশ্ন (১৩০৫৩) : একদিন এক জানাযায় উপস্থিত হয়ে অন্যমনস্ক থাকায় মাইয়েত পুরুষ না মহিলা এর বিবরণ শুনতে পাইনি। এমতাবস্থায় কীভাবে নিয়ত করব তা বুঝতে না পেরে উক্ত জানাযায় আর শরীক হইনি। জানার বিষয় হল, জানাযার নামাযে মাইয়েত পুরুষ না মহিলা তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে নিয়ত করা কি জরুরি?
প্রশ্ন (১৩০৫২) : আমি আমার এক বন্ধুকে এক লক্ষ টাকা নিম্নোক্ত শর্তাবলীতে ব্যবসা করার জন্য দিয়েছি। ১. লোকসান হলে আমার। ২. যদি লাভ হয় তবে মূল টাকার ১৮%-২৩% লাভ দিতে হবে। পরবর্তীতে জানতে পেরেছি, এরূপ ব্যবসায়িক চুক্তি বৈধ নয়। তাই হযরতের কাছে জিজ্ঞাসা, এ ব্যবসা থেকে অন্য কোনো পদ্ধতিতে লাভ নেওয়া যাবে কি না? কারণ, এক বছর ইতিমধ্যেই শেষ। যদি সে সন্তুষ্ট হয়ে কিছু লাভ দেয় তা গ্রহণ করা হারাম হবে কি? জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১৩০৫১) : আমার চাচার টিনের ব্যবসা আছে। ব্যবসার সম্পূর্ণ পুঁজি তার একারই। আমরা দু’ভাই বড় হওয়ার পর তিনি আমাদেরকেও ব্যবসার কাজে শরীক করেছেন। এখন আমরা সবাই মিলে ব্যবসা দেখাশোনা করি। ইদানিং কিছু বিষয়ে বড় ভাইয়ের সাথে অমিল হওয়ায় আমি চাচ্ছি পৃথক হয়ে অন্য কোনো ব্যবসা করব। আমি গত সাত বছর দোকানে খেটেছি। এ সময়ে যখন যে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে চাচার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা পূরণ করেছি। জানার বিষয় হল, উক্ত দীর্ঘ সময়ের খাটনি বাবদ আমি কি কোনো প্রাপ্য বা ব্যবসার কোনো অংশের মালিকানা দাবি করতে পারব? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন (১৩০৫০) : বর্তমানে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে মাসিক স্রাব বন্ধ করে রাখা যায়। তাই অনেকে রমযান মাসের সবগুলো রোযা রাখার জন্য ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখে। বিশেষত হ্জ্ব চলাকালীন হায়েয আসলে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই অধিকাংশ মহিলা হজ্বের সময়গুলোতে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখে, যেন হজ্বের আমলগুলো কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সম্পাদন করা যায়। এজন্য হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এভাবে ঋতুস্রাব বন্ধ করে রাখা কি জায়েয আছে? এ অবস্থায় কি সে নামায, রোযা ও তাওয়াফ ইত্যাদি আদায় করতে পারবে? যদি পারে তাহলে পরবর্তীতে এগুলো কাযা করা লাগবে কি না? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১৩০৪৯) : একদিন শেষ রাতে নফল নামায পড়া অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে যায়। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত নফল নামায কি পবিত্র হওয়ার পর কাযা করতে হবে?
প্রশ্ন (১৩০৪৮) : গত মাসে সফরের উদ্দেশ্যে ইন্ডিয়া গিয়েছিলাম। যাওয়ার সময় পনের দিনের বেশি অবস্থানের ইচ্ছা ছিল। ভিসাও ছিল বিশ দিনের। কিন্তু কোনো কারণে আটদিন থেকে দেশে ফেরার ইচ্ছা করি। প্রথমে তো পনের দিন থাকার ইচ্ছা ছিল, তাই মুকীম হিসেবে পূর্ণ নামাযই পড়েছি। কিন্তু আটদিন পর যখন চলে আসার সিদ্ধান্ত হলো তখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই যে, এখন কসর করব নাকি আগের মতই পূর্ণ নামায পড়ব। পরে এ কথা ভেবে পূর্ণ নামায পড়া শুরু করি যে, চার রাকাতের জায়গায় দুই রাকাত পড়লে তো নামাযই হবে না, তবে দুই রাকাতের জায়গায় চার রাকাত পড়লে অন্তত নামায হয়ে যাবে। তাই হুজুরের কাছে আমার জিজ্ঞাসা হল, পরবর্তী সময় কসর না করে পূর্ণ নামায পড়া কি ঠিক হয়েছে?
প্রশ্ন (১৩০৪৭) : কয়েকজন মুসাফির মিলে আসরের নামায জামাতের সাথে আদায় করছিল। এক রাকাত হয়ে গেছে আর এক রাকাত বাকি। ইতিমধ্যে একজন মুসাফির এসে নামাযে শরীক হল। এখন কথা হল এই মুসাফির তো জানে না যে, ইমাম মুসাফির না মুকিম। এখন জানার বিষয় হলো, এই মুসাফির মুসল্লি কত রাকাত নামায পড়বে?
প্রশ্ন (১৩০৪৬) : এক ব্যক্তির সাথে কোন এক মহিলার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। কয়েক বছর পর ঐ লোক একটি মেয়েকে বিবাহ করে। পরবর্তীতে জানা যায়, যে মহিলার সাথে ঐ লোকের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল এই মেয়েটি হল ঐ মহিলার সন্তান অর্থাৎ মেয়ের মা ঐ লোকের শ্বাশুড়ী। এখন প্রশ্ন হল এই বিবাহ কি বাকি থাকবে নাকি মেয়েকে তালাক দিতে হবে? অনুগ্রহপূর্বক দলীলসহ জানালে বাধিত থাকব।
প্রশ্ন (১৩০৪৫) : একদিন বাড়িতে থাকা অবস্থায় যোহরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরও নামায না পড়ে সফরে বের হয়ে যাই। পরে কোনো জটিলতার কারণে সফর অবস্থায়ও নামাযটি পড়া হয়নি। জানার বিষয় হল, মুকীম অবস্থায় ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার কারণে এখন আমাকে কি চার রাকাতের কাযা করতে হবে, নাকি দুই রাকাতের কাযা করলেই চলবে?
প্রশ্ন (১৩০৪৪) : গত রমযানে একদিন আমরা কয়েকজন হাফেয একসাথে তারাবীর নামায আদায় করি। প্রথম চার রাকাতে লম্বা কেরাত পড়ার কারণে অনেক রাত হয়ে যায়। এরপর বাকি ষোল রাকাত দুই সালামে আট রাকাত করে আদায় করে নেই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, এক সালামে আট রাকাত আদায় করার দ্বারা আমাদের নামায কি আদায় হয়েছে?
প্রশ্ন (১৩০৪৩) : কুরবানী ঈদে আমি তিন-চার দিনের জন্য চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আসি। আমি জানতাম মুসাফিরের উপর তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব নয়। তাই আমি মুসাফির অবস্থায় বিভিন্ন সময় মুকীম ইমামের পেছনে নামায পড়লেও তাকবীরে তাশরীক বলিনি। পরবর্তীতে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পারলাম, মুসাফির, মুকীম ইমামের একতেদা করলে তার উপরও তাকবীরে তাশরীক ওয়াজিব হয়ে যায়। জানতে চাচ্ছি, তার কথাটি কি সঠিক? সঠিক হলে আমার করণীয় কী?
প্রশ্ন (১৩০৪২) : আমাদের মসজিদের ভবনটি অনেক পুরাতন। তাই পুনঃনির্মাণের জন্য গত বছর মসজিদটি ভাঙা হয়। আপাতত নামায পড়ার জন্য পাশে অবস্থিত মুতাওয়াল্লী সাহেবের জায়গায় টিনশেড দিয়ে একটি অস্থায়ী মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ঈদ-জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামায এই অস্থায়ী মসজিদেই আদায় করা হয়। এলাকার বিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত নতুন ভবনের কাজ শুরু করা যায়নি। জানার বিষয় হল, সামনের রমযানে এ অস্থায়ী মসজিদে ইতিকাফে বসা সহিহ হবে কি? সহিহ না হলে মহল্লাবাসী সুন্নত ইতিকাফ কীভাবে আদায় করবে?
প্রশ্ন (১৩০৪১) : মেয়েদের কোন কোন অংশের লোম পরিষ্কার করা জায়েজ? বিশেষ করে দুই ভ্রু এর মাঝের লোম এবং হাত-পায়ের লোমের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধ আছে কী? দয়া করে জানাবেন।
প্রশ্ন (১৩০৪০) : আমার একজন বয়স্কা বিবাহিতা মেয়ে আছে। সে প্রতি বছর ঈদে আমাদের বাড়িতে আসে। এবার ঈদুল ফিতরের দিন যখন আমি অন্য সন্তানদের সদাকাতুল ফিতর আদায় করছিলাম তখন আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি যে, আমার ঐ মেয়ের সদাকাতুল ফিতরও কি আমাকে আদায় করতে হবে? কারণ তার বর্তমান যাবতীয় খরচ তো আমিই বহন করছি। তাই এ বিষয়টির সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি।
প্রশ্ন (১৩০৩৯) : আমি মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে ব্যবসা করছি। আমাদের পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত ঢাকায় সাত তলা একটি বাড়ি আছে। এক তলায় আমরা থাকি, বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া। দুইটি ফ্ল্যাটে আমাদের দুই আত্মীয় ভাড়া থাকে। তারা ঠিকমত ভাড়া পরিশোধ করে না। কখনো দুই-তিন মাসের ভাড়াও বাকি পড়ে থাকে। আত্মীয় হওয়ায় চাপও দিতে পারি না। আমি সাধারণত ডিসেম্বরে ব্যবসার বাৎসরিক হিসাবের পাশাপাশি যাকাতেরও হিসাব করে ফেলি। এখন প্রশ্ন হল, বকেয়া বাড়ি ভাড়ার যাকাতের হিসাব কীভাবে করব?
প্রশ্ন (১৩০৩৮) : আমার স্ত্রীর উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আমি দেশের বাইরে আছি। আমরা দু’জন একসাথে হজ্ব পালন করব। বাংলাদেশ থেকে আমার স্ত্রীকে শ্বশুর সৌদি এয়ারলাইন্স পর্যন্ত দিয়ে যাবেন আর আমি এদিক থেকে তাকে রিসিভ করব। এখন হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, বাংলাদেশ থেকে বিমানে সৌদি আসতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। এমতাবস্থায় এই অল্প কয়েক ঘণ্টা মাহরাম ছাড়া সফর করতে কি কোনো প্রকার অসুবিধা আছে?
প্রশ্ন (১৩০৩৭) : আমি অনেক আগে থেকেই হজ্ব করার নিয়তে টাকা জমা করছি। আলহামদুলিল্লাহ আমার হজ্ব করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টাকা জমাও হয়ে যায়। কিন্তু ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে আমার ঘর-বাড়ি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হজ্বের জন্য জমানো টাকা দিয়েই এর মেরামত ও সংস্কার করি। বর্তমানে আমার কাছে হজ্ব করার মত অর্থকড়ি নেই। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এতে কি আমার কোনো গুনাহ হয়েছে? এবং আমার জন্য কি হজ্ব করা আবশ্যক?
প্রশ্ন (১৩০৩৬) : ইসলামিক কার্টুন ভিডিও তৈরি করা এবং এ থেকে ইনকাম করা সম্পর্কে ইসলামি শরীয়ত কী বলে?