বিবিধ

পেনশনের টাকা কি সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকে রাখতে পারব?

প্রশ্ন (১২১৫০) : আমি পেনশন পেয়েছি। টাকাটা উঠানোর পর তা দিয়ে জমি বন্ধক রাখতে পারছি না, আবার গরু কিনে বর্গাও দিতে পারছি না। কারণ, উভয়টাই নাকি নাজায়েয। আমি কি সংরক্ষণের জন্য টাকাটা ব্যাংকে রাখতে পারব? যদি রাখা যায় তাহলে কোন ধরনের হিসাবে রাখা জায়েয হবে? জানালে অনেক উপকার হয়।

খৎনা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২১৪৯) : আমার ছেলের বয়স চার বছর। একদিন রাতে সে ঘুমিয়ে ছিল। ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা সাথে লক্ষ্য করলাম, ঘুমন্ত অবস্থায় কীভাবে যেন তার খৎনা করা হয়ে গেছে। কিন্তু খৎনা করার জন্য যে অতিরিক্ত চামড়াটুকু কেটে ফেলতে হয় তা পুরোপুরি কাটেনি; কিছু অংশ এখনো রয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আমার ছেলের কি খৎনা আদায় হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামাযের মধ্যে হাই আসলে কি করবে?

প্রশ্ন (১২১৪৪) : নামাযের মধ্যে যদি কারো হাই আসে তাহলে নিজের হাত মুখের উপর রাখা কি যথেষ্ট? নাকি হাই আটকানোরও চেষ্টা করতে হবে? গতকাল জুমআর বয়ানে খতীব সাহেব বললেন যে, হাই আসার পর আটকানো সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি মুখের উপর হাত রাখে তাহলে সেটা মাকরূহ হবে। তার কথাটি কি সহিহ?

জুমা ও ঈদের খুতবা চলাকালীন মুসল্লীরা দুরুদ শরীফ পড়তে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২১৩৮) : আমাদের দেশে সাধারণত খতীবগণ জুমার দ্বিতীয় খুতবায় কুরআনুল কারীমের আয়াত- اِنَّ اللّٰهَ وَ مَلٰٓىِٕكَتَهٗ یُصَلُّوْنَ عَلَی النَّبِیِّ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَیْهِ وَ سَلِّمُوْا تَسْلِیْمًا তিলাওয়াত করে থাকেন। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আমরা তো জানি, খুতবা চলাকালীন মুসল্লীদের জন্য নীরব থাকা আবশ্যক। কিন্তু খতীব সাহেব যদি খুতবার মধ্যে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন তারপরও তারা নীরবই থাকবেন, না খতীবের ন্যায় দরূদ শরীফ পাঠ করবেন? সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে নামায আদায় করার মান্নত করলে কি সেই জায়গায় গিয়েই তা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৩১) : আমার বাবা অনেক আগে কোনো এক প্রসঙ্গে মসজিদে নববীতে চার রাকাত নফল নামায পড়ার মান্নত করেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার মসজিদে নববীতে যাওয়ার তৌফিক হয়নি। এখন তার বয়স অনেক বেড়েছে, শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। শারীরিক দুর্বলতার কারণে লম্বা সফর করা তার জন্য কঠিন। তো এখন তিনি কী করতে পারেন? মান্নতটি পূর্ণ করার কী পদ্ধতি হতে পারে?

কুরআন নিয়ে কসম করলে কি কসম সংঘটিত হয়?

প্রশ্ন (১২১৩০) : আমি একবার আমার চাচাতো ভাইয়ের বাসায় যাই। সেখানে তার সাথে একটি বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমি কুরআন শরীফ হাতে নিয়ে বলি যে, ‘আমি কুরআন শরীফের কসম করে বলছি, ‘আর কখনো তোর বাসায় আসব না।’ পরবর্তীতে তার সাথে রাগ মিটে যায়। এখন জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত কথার দ্বারা কি কসম হয়ে গেছে? এখন যদি আমি তার বাসায় যাই তাহলে কি আমাকে কাফফারা দিতে হবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

মান্নত করার পর তা আদায় না করে মৃত্যু বরণ করলে তার জন্য করণীয়।

প্রশ্ন (১২১১৮) : আমার বড় ভাই একবার মান্নত করে বলেন যে, আমার চাকরি হলে তিন দিন ইতিকাফ করব। পরবর্তীতে তার চাকরি হয়, কিন্তু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তার মান্নতকৃত ইতিকাফ আদায় করেননি। এভাবে তিনি গত সপ্তাহে ইন্তেকাল করেন। আমাদের জানার বিষয় হল, তিনি যেন মান্নতের দায় থেকে মুক্ত হতে পারেন- এজন্য আমরা কী করতে পারি?

সিজদার আয়াত লিখলে কি সিজদা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২০৮৮) : কয়েকদিন আগে খাতায় একটি প্রবন্ধ লিখছিলাম। ঐ প্রবন্ধে কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত উল্লেখ করি। সেখানে সিজদার আয়াতও ছিল। জানার বিষয় হল, সিজদার আয়াত লেখার কারণে আমার ওপর কি সিজদা ওয়াজিব হয়েছে?

কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১২০৭৫) : একদিন মাহফিলে টিভি দেখার ভয়াবহতা সম্পর্কে একজন আলেম থেকে আলোচনা শুনি। সেদিন থেকেই টিভি দেখা ছেড়ে দিই এবং কসম করি যে, ভবিষ্যতে কখনো টিভি দেখব না, দেখলে তিন হাজার টাকা সদকা করব। কিছুদিন আগে এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে তার সাথে টিভি দেখা হয়ে যায়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমাকে কি তিন হাজার টাকাই সদকা করতে হবে? নাকি কসমের কাফ্ফারা হিসেবে ১০ জন গরিবকে খাওয়ালেও চলবে? সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

দুআয়ে ইউনুস পড়ার মান্নত করলে কি তা আবশ্যক হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২০৭৪) : কিছুদিন আগে আমার ছোট ভাই গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। তখন আমি মান্নত করেছিলাম সোয়া লক্ষবার দুআয়ে ইউনুস পড়ব। এখন আমার জন্য একাকী সোয়া লক্ষবার দুআয়ে ইউনুস পড়াটা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তাই মুহতারামের নিকট জানতে চাচ্ছি, আমার জন্য একাকী পড়া জরুরি নাকি পরিবারের সকলে মিলে পড়লেও মান্নত পুরা হয়ে যাবে?

নিজের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যায় এমন মান্নত করা উচিত নয়।

প্রশ্ন (১২০৬৯) : কয়েক বছর আগে একদিন আমার ছেলে বাহির থেকে বাসায় ফিরছিল। তখন তার ফেরার পথে কোথাও গেঞ্জাম চলছিল। তখন পুলিশ আমার ছেলেকে সন্ত্রাস মনে করে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও তাকে ছাড়ানো যাচ্ছিল না। তখন আমি মান্নত করেছিলাম, আমার ছেলে যদি জেলখানা থেকে ছাড়া পায় তাহলে আমি যতদিন বেঁচে থাকব প্রত্যেক সোমবার রোযা রাখব। এর কিছুদিন পর প্রায় আলৌকিকভাবে আমার ছেলে মুক্তি পেয়ে যায়। এরপর থেকে আমি নিয়মিত সোমবারে রোযা রেখে যাচ্ছি। কিন্তু এ বছর থেকে বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার কারণে আমার জন্য প্রত্যেক সোমবারে রোযা রাখা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমি মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে রোযা না রেখে আমার জন্য কিছু করার সুযোগ রয়েছে কি?

কারো কোনো জিনিস নিয়ে হারিয়ে ফেললে বিধান কী?

প্রশ্ন (১২০৪২) : আমার বন্ধু সফরে যাওয়ার সময় আমার নতুন মোবাইলটি অনুমতি নিয়ে সঙ্গে নিয়ে যায়। রাস্তায় গজল শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গেলে স্টেশন আসার পর মোবাইলটি রেখেই বাস থেকে নেমে পড়ে। এখন তার উপর আমাকে নতুন একটি মোবাইল কিনে দেওয়া আবশ্যক কি না?

একাধিক রোযা রাখার মান্নত করলে সেগুলো একসাথে রাখতে হবে নাকি ভেঙে ভেঙে রাখা যাবে?

প্রশ্ন (১২০৩৭) : আমার চাচাতো বোনের নতুন বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর আমরা জানতে পারি, তার স্বামী তাকে মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করে। এটা জানার পর তাকে আমরা নিয়ে আসতে চাইলে তারা আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে আমাদের ফিরিয়ে দেয়। বোনের সাথে আমার সম্পর্ক ভালো ছিল বলে আমি অত্যন্ত পেরেশান হই, খুব কান্নাকাটি করি। একপর্যায়ে আমি আমার ভাইকে বলে বসি, ‘তুই সাক্ষী থাক, ও যদি আমাদের কাছে চলে আসতে পারে তাহলে আমি ৩০ টা রোযা রাখব।’ কিছুদিন পর সে জোরপূর্বক সেখান থেকে চলে আসতে সক্ষম হয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, সেদিনের ঐ কথার কারণে কি এখন আমাকে ৩০টা রোযা রাখতে হবে? রাখতে হলে তা কি লাগাতার রাখতে হবে, নাকি ভেঙে ভেঙে রাখারও সুযোগ আছে? উল্লেখ্য, ঐ কথা বলার সময় আমার লাগাতার রাখার নিয়ত ছিল না।

কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১২০৩৬) : আমি বারবার একটি পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক চেষ্টা করেও তা থেকে বিরত থাকতে পারছিলাম না। একবার দৃঢ় সংকল্প করে বলি, ভবিষ্যতে কখনো এ কাজটি করব না; করলে লাগাতার দশ দিন রোযা রাখব। পরবর্তীতে শয়তানের ধোঁকায় কাজটি আবার করে ফেলি। কিন্তু শারীরিক কিছু অসুস্থতার কারণে বর্তমানে লাগাতার দশ দিন রোযা রাখা আমার জন্য কষ্টকর। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কী করতে হবে?

কসম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০২৪) : আমি আমার বন্ধুদের সাতে মিশে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়ে যাই। এতে আমার বাবা-মা খুব কষ্ট পান এবং আমার সাথে খুব রাগ করেন। কিন্তু আমি কিছুতেই এটা ছাড়তে পারছিলাম না। পরে একদিন আমার বাবা আমাকে বলেন যে, তুমি তোমার মায়ের মাথা ছুঁয়ে কসম করে বলো যে, আর ধূমপান করবে না। তখন আমি বাধ্য হয়ে আমার মায়ের মাথা ছুঁয়ে বলি, “কসম করছি, আমি আর ধূমপার করব না।” কিন্তু কিছুদিন পর আবার করে ফেলি। তো আমি জানতে চাচ্ছি, এর কারণে কি আমার উপর কোনো কাফ্ফারা ওয়াজিব হয়েছে?

কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের থেকে টাকা উঠিয়ে তাদের বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২০১১) : আমি একজন শিক্ষক। আমি একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করি। আমাদের মাদরাসায় সাপ্তাহিক বক্তৃতার মজলিস হয়। সেখান ছাত্ররা বক্তৃতা দেওয়ার জন্য অংশগ্রহণ করে থাকে। যারা বক্তৃতায় অংশগ্রহণ করে তাদের থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়। তারপর ঐ টাকা দিয়ে ১ম, ২য়, ও ৩য় স্থান অর্জনকারী ছাত্রদেরকে পুরস্কার দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু আমার মাদরাসায় বেড়াতে আসলে সে বক্তৃতা মজলিসে উপস্থিত হয়। তখন সে এ ব্যাপারে জানতে পেরে বলে এটা জায়েয নেই। তো আমি হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক আছে? এভাবে টাকা উঠিয়ে পুরস্কার দেওয়া আসলেই জায়েয নেই?

কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১১৯৯৮) : আমি মাঝে মাঝেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেড়াতে গেলে পান খেতাম। এখন আমার পান খাওয়ার নেশা হয়ে গেছে। কিন্তু আমার মা-বাবা পান খাওয়া খুব অপছন্দ করেন। তাই তারা আমাকে পান খেতে নিষেধ করেন। কিন্তু আমি এটা ছাড়তে পারছি না বিধায় তারা আমাকে কসম করায়। তাই আমি কসম করে বলি যে, ‘আমি কসম করছি আর পান খাব না’। কিন্তু আমি আবারও পান খেয়ে ফেলি। এখন আমার কী করণীয়? আমার উপর কি কাফ্ফারা আবশ্যক হয়েছে?

হারানো টাকার মালিক না পেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১১৯৯৭) : একবার আমি আামার বন্ধুদের সাথে ঢাকা থেকে ‍সিলেট সফরে যাই। সফর থেকে ফেলার পথে গাড়িতে উঠার সময় আমি কিছু টাকা পাই। টাকাগুলো আমার কোনো বন্ধুর পকেট থেকে পড়েছে মনে করে নিয়ে নেই। কিন্তু তাদের জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি তাদের কারো না। তখন আশেপাশে লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করেও মালিক না পেয়ে আমি টাকাগুলো নিয়ে আসি। এখন আমি এই টাকাগুলো কি করব?

ইসলামের দৃষ্টিতে হিজড়াদের চাঁদাবাজির বিধান।

প্রশ্ন (১১৮৮৬) : আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বাসে বা ট্রেনে উঠলে দেখা যায় হিজড়ারা জোরপূর্বক টাকা নিয়ে যায়। টাকা না দিলে অশ্লীল কথা বলে আর খুব খারাপ ব্যবহার করে। এভাবে টাকা নেওয়া কি ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েয আছে?