মসজিদ ফান্ডের টাকা নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?
প্রশ্ন (১২৭১৫) : আমাদের মসজিদের ফান্ডের টাকা মসজিদ কমিটি নিজস্ব কাজে ব্যবহার করে। পরবর্তীতে মসজিদের প্রয়োজন পড়লে তা দিয়ে দেয়। এভাবে মসজিদের টাকা নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?
প্রশ্ন (১২৭১৫) : আমাদের মসজিদের ফান্ডের টাকা মসজিদ কমিটি নিজস্ব কাজে ব্যবহার করে। পরবর্তীতে মসজিদের প্রয়োজন পড়লে তা দিয়ে দেয়। এভাবে মসজিদের টাকা নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?
প্রশ্ন (১২৭১৪) : بيع الوفاء কী? بيع الوفاء -এর ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মত কী? আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলন রয়েছে যে, ঋণগ্রহিতা তার জমি ঋণদাতার কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নেয়। আর ঋণদাতা ঋণ পরিশোধ হওয়ার আগ পর্যন্ত জমিটি ভোগ করে। আমরা জানি, এমন লেনদেন অবৈধ। সমাজকে অবৈধ লেনদেন থেকে বাঁচানোর জন্য بيع الوفاء -এর পরামর্শ দেওয়া যাবে কি?
প্রশ্ন (১২৭১৩) : আমি শুক্রবার সকালে চামড়ার মোজা পরিধান করি এবং ঐ মোজার উপর মাসাহ করে জুমার নামায আদায় করি। এরপর সফরে বের হই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কত দিন পর্যন্ত এই মোজার উপর মাসাহ করতে পারব?
প্রশ্ন (১২৭১২) : আমার একটি আনারস বাগান আছে। আনারস যখন ছোট ছিল তখন দশ টাকা মূল্যে সমগ্র আনারস বিক্রি করেছি। তবে ক্রেতা শর্ত করে যে, আনারস পাকা পর্যন্ত আমার বাগানে রাখবে। এভাবে বিক্রয় জায়েয আছে কি? দলীল প্রমাণসহ জানালে চির কৃতজ্ঞ থাকব।
প্রশ্ন (১২৭১১) : আমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ফ্যাকাল্টির ডিন অফিসে চাকরি করি। আমার নিয়মিত অফিস ডিউটির বাইরে ডিন স্যার আমাকে অতিরিক্ত একটি প্রজেক্টের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ প্রজেক্টের তদারকী করা আমার নিয়মিত অফিস ডিউটির অতিরিক্ত ডিউটি। এর জন্য আমাকে অতিরিক্ত কোনো ভাতা দেওয়া হবে না। আর এ প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন করতে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এরচে’ কম খরচে কাজটি করা সম্ভব; কাজের কোনো ত্রুটি ছাড়াই। অর্থাৎ শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দরদাম করে কিছুটা কমিয়ে টাকা বাঁচানো সম্ভব। আমি জানতে চাচ্ছি, বেঁচে যাওয়া টাকাগুলো আমার জন্য নেওয়া বৈধ হবে কি না?
প্রশ্ন (১২৭১০) : একজন আমার মাধ্যমে কবর যিয়ারত করিয়েছে এবং আমার মাধ্যমে কুরআন খতম করে সওয়াবরেসানী করেছে। এবং সে আমাকে এর বিনিময়ে কিছু টাকা দিল। এখন আমার জন্য তা নেওয়া বৈধ হবে কি?
প্রশ্ন (১২৭০৯) : কোনো মহিলার জন্য তার দেবর বা ভাসুর কিংবা তার স্বামীর ভগ্নিপতি এবং অন্যান্য গাইরে মাহরাম আত্মীয়স্বজন যেমন স্বামীর মামা, খালু, ফুফা ইত্যাদি এদের সাথে পর্দার অন্তরালে থেকে বা ফোনের মাধ্যমে কথাবার্তা বলা কিংবা খোঁজখবর নেওয়া জায়েয হবে কি? বা ঐ সকল লোকেরা ঐ মহিলার সাথে কথাবার্তা বলতে গেলে জায়েয হবে কি না? এমনিভাবে স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর ঐ সকল আত্মীয়স্বজন যাদের সাথে পর্দা করা ফরয তাদের সাথে পর্দা করে বা ফোনের মাধ্যমে কথাবার্তা বলা বা খোঁজ-খবর নেওয়া জায়েয হবে কি? বা ঐ সকল মহিলারা ঐ পুরুষের সাথে কথা বলতে চাইলে তা জায়েয হবে কি?
প্রশ্ন (১২৭০৮) : আমি গতকাল যোহরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে সুন্নতে দাঁড়ানোর পর ইকামত শুরু হয় যায়। তখন আমি দুই রাকাত সুন্নত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেলি। এখন কি আমাকে ফরযের পরে নতুন করে চার রাকাত সুন্নত করতে হবে নাকি দুই রাকাত পড়লেও হয়ে যাবে?
প্রশ্ন (১২৭০৭) : সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই মানুষের মৃত্যুতে আলহামদুলিল্লাহ বলছে। আমি জানতে চাচ্ছি যে, কারো মৃত্যুতে কী আলহামদুলিল্লাহ বলা যাবে, যদি সে হত্যা মামলার আসামিও হয়? ইসলাম এ সম্পর্কে কী বলে?
প্রশ্ন (১২৭০৬) : আমার বাবার উপর কুরবানী ওয়াজিব ছিল। তিনি কুরবানীর জন্য একটি খাসি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু ঈদের আগের দিন রাতে কার এক্সিডেন্টে মারাত্মকভাবে আহত হন। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু পরদিন বিকাল ৫টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। বাবার মৃত্যুতে পুরো পরিবার শোকাহত থাকায় পশু কুরবানী করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে আর তা কুরবানী করা হয়নি। একজন বললেন, এটা সদকা করে দিতে হবে। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, এ খাসিটি আমরা কী করব?
প্রশ্ন (১২৭০৫) : জনৈক ব্যবসায়ী এই পরিমাণ সম্পদের মালিক যে, তা দ্বারা হজ্বের যাবতীয় খরচ ও হজ্ব থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারের খরচাদি আদায় করা সম্ভব। কিন্তু হজ্ব করলে তার ব্যবসার মূলধন থাকবে না। তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ এই ব্যবসা দ্বারাই হয়ে থাকে। এখন সে জানতে চাচ্ছে যে, এমতাবস্থায় তার উপর হজ্ব ফরয হবে কি?
প্রশ্ন (১২৭০৪) : আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি কবরস্থানের জন্য দুই বিঘা জমি ওয়াকফ করে। এলাকাবাসী সকলে মিলে জমিটির চারপাশ দিয়ে দেয়াল করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত জমিটির ওয়াকফ দলীল করা হয়নি। ইতিমধ্যে জমিটির এক পাশ দিয়ে কয়েকটি কবরও করা হয়েছে। এখন জমিটির ওয়াকফ দলীল করা হবে। তবে ওয়াকফকারী বিশেষ একটি প্রয়োজনের কারণে এক বিঘা জমি নিজের জন্য রেখে যে অংশে কবর দেওয়া হয়েছে শুধু ঐ এক বিঘা দলীল করতে চায়। আর যে এক বিঘা সে ফেরত নিতে চায় ঐ অংশের দেয়াল নির্মাণ বাবদ খরচ কবরস্থানের ফান্ডে দিয়ে দিবে। এখন আমরা জানতে চাই, তার জন্য ঐ এক বিঘা জমির ওয়াকফ প্রত্যাহার করার সুযোগ আছে কি? সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৭০৩) : আমি আমার বন্ধুর কাছ থেকে মুযারাবার ভিত্তিতে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছি। তাকে ৩০% লভ্যাংশ দেওয়ার চুক্তি করে তা দিয়ে একটি লাইব্রেরী দিয়েছি। আর বর্তমানে এ ধরণের ব্যবসার প্রচার-প্রসার না হলে দেখা যাবে ভালো ব্যবসা হবে না। তাই ব্যবসার স্বার্থেই প্রাথমিকভাবে এর পরিচিতির জন্য প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনে কিছু টাকা খরচ হয়েছে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ টাকাগুলো যেহেতু ব্যবসার স্বার্থেই খরচ হয়েছে তা ব্যবসার ব্যয় ধরে ব্যবসা থেকে নিতে পারব কি না?
প্রশ্ন (১২৭০২) : আমার বাসা হেমায়েতপুর। বাসার পাশেই আমার একটি ছোটখাটো মুরগীর খামার আছে। খামারে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার ডিম উৎপাদন হয়। আমার একক খরচে খামার পরিচালনা সম্ভব হয়ে উঠে না বিধায় মাঝে মাঝেই ঋণ করতে হয়। ব্যাংক থেকে লোন নিতে গেলে সেখানে তো সুদের কারবার আছে। তাই সাধারণত পরিচিতজনদের থেকে স্বল্প সময়ের জন্য করয করে থাকি। কিছুদিন আগে আমার পরিচিত এক আড়ৎ মালিক আমাকে বিনা সুদে ঋণ দিতে চেয়েছে। তবে তার শর্ত হল, আমার খামারের উৎপাদিত সকল ডিম তার আড়তে বিক্রি করতে হবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার জন্য তার থেকে এ শর্তে ঋণ নেওয়া জায়েয হবে কি না?
প্রশ্ন (১২৭০১) : জনৈক মুসলমান ব্যক্তি মারা যাওয়ার চার মাস পূর্বে কাদিয়ানীদের দাওয়াত পেয়ে কাদিয়ানী হয়ে গিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ। এ অবস্থাতেই সে মারা গেছে। আল্লাহ তাআলা তার স্ত্রী, সন্তানদের ও অন্যান্য আত্মীয়দের এ ফিতনা থেকে রক্ষা করেছেন। এখন জানার বিষয় হল, লোকটির মুসলমান ওয়ারিশরা কি তার থেকে মীরাস পাবে? অনেকে বলে, ‘কাফেররা যেমন মুসলমানদের থেকে মীরাস পায় না তেমনি মুসলমানরাও কাফেরদের থেকে মীরাস পায় না। অতএব উক্ত লোকটির মুসলমান ওয়ারিশরা তার থেকে মীরাস পাবে না।’ তাদের এ কথা কতটুকু সঠিক? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৭০০) : আমি কয়েক বছর যাবৎ নিয়মিত কুরবানী আদায় করছি। কিন্তু এর আগে কয়েক বছর কুরবানী আবশ্যক হওয়া সত্ত্বেও না জানার কারণে তা আদায় করতে পারিনি। তাই জানার বিষয় হল, এখন কি অনাদায়ী কুরবানীগুলো আদায় করা লাগবে? এবং তা করার শরীয়তসম্মত পদ্ধতি কী?
প্রশ্ন (১২৬৯৯) : অনেক সময় মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সিজদারত আছেন। তখন কেউ কেউ ওই অবস্থায় ইমামের সঙ্গে নামাযে শরীক হয়। আবার অনেকে ইমাম সাহেব সিজদা থেকে উঠার অপেক্ষায় থাকে। যখন ইমাম সাহেব সিজদা থেকে দাঁড়ান, তখন নামাযে শরীক হয়। জানার বিষয় হল, ইমামকে সিজদা অবস্থায় পেলে করণীয় কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১২৬৯৮) : আমার দাদা আমাদের বাড়ির পাশের একটি জমি মসজিদের প্রয়োজনে ওয়াকফ করেন। তো আমাদের বাড়ি থেকে আমাদের এলাকার মসজিদ দূরে হওয়ায় বৃষ্টির দিনে যাতায়াত খুবই কষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা চাচ্ছি ওয়াকফকৃত জমিতে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করতে। এখন হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, উক্ত জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?
প্রশ্ন (১২৬৯৭) : আমাদের এলাকায় একথা প্রসিদ্ধ যে, যদি কোনো ব্যক্তির হাত থেকে অনিচ্ছায় ও ভুলবশত কুরআন শরীফ পড়ে যায়, তাহলে তা ওজন করে চাল বা গম ইত্যাদি সদকা করতে হয়। এ কথাটি মহিলাদের মাঝে বেশি প্রসিদ্ধ। তাই জানতে চাচ্ছি, আর আল্লাহ না করুন, কখনো এমনটি হয়ে গেলে আমাদের করণীয় কি?
প্রশ্ন (১২৬৯৬) : আমার বাড়ি মানিকগঞ্জ। কয়েকদিন আগে আমি খুলনায় আমার এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যাই। সেখানে একটি ছোট মসজিদে জুমা আদায় করি। জুমার খুতবা দেওয়ার পর হঠাৎ খতীব সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন মুসল্লিরা আমাকে ইমামতির জন্যে অনুরোধ করলে আমি নামায পড়াই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মুসাফির হয়েও আমি যে জুমার নামাযে ইমামতি করেছি তা কি সহিহ হয়েছিল? না হলে এখন আমার করণীয় কী? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।